চিয়া সিডস খুবই উপকারী, তবু কাদের খাওয়া নিষেধ?
চিয়া সিডস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য নিঃসন্দেহে উপকারী। প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর। বিশেষ করে ওজন কমানো থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে চিয়া সিডস। প্রতিদিন ১-২ চামচ চিয়া সিডস খেলে একাধিক রোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। কিন্তু এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সবার স্বাস্থ্যের জন্য চিয়া সিডস উপযোগী নয়। আপনি চাইলেই খেতে পারবেন না। কারা চিয়া সিডস এড়িয়ে চলবেন, কেন চলবেন তা জানা উচিত।
কারণ চিয়া সিডসে নিম্ন রক্তচাপের রোগীরা খেতে পারবেন না। আর উচ্চ রক্তচাপ রোগীর জন্য চিয়া সিডস ভীষণ উপযোগী। কিন্তু ব্লাডপ্রেশার যদি সবসময়ে কম থাকে, তাহলে এই বীজ না খাওয়াই ভালো। কারণ চিয়া সিডসে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই নিম্ন রক্তচাপে এই বীজ খেলে প্রেশার আরও কমে গিয়ে কোনো বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে।
এ ছাড়া অনেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে আর চিয়া সিডস খাওয়ার প্রয়োজন নেই। চিয়া সিডস রক্তকে পাতলা করে এবং রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না। অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে চিয়া সিডস খেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তখন ছোটখাটো কাটাছেঁড়াতেও রক্ত থামার নাম নেবে না।
আবার যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তারা চিয়া সিড খেতে পারবেন না। কারণ এর মধ্যে পটাশিয়াম, ফসফরাস ও অক্সালেটের মতো উপাদান রয়েছে। এগুলো কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে। তার ওপর যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করেন, তবে কিডনির সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। তাই কিডনির রোগীদের চিয়া সিডস খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া চিয়া সিডস প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে থাকে। আপনার শরীর যদি ডিহাইড্রেটেড থাকে, তারপরও চিয়া সিডস খান, তখন সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। কারণ চিয়া সিডসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা গ্যাস, পেটফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই চিয়া সিডস খাওয়ার আগে ও পরে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

